আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট সাজাবেন যেভাবে – পর্ব ৩

ই-কমার্স ওয়েবসাইট

ই-কমার্স ওয়েবসাইট কিভাবে সাজাতে হবে এবং এর অন্যান্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতোমধ্যেই কোর্সটিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করা হয়েছে। আজ তৃতীয় পর্বে আমরা জানার চেষ্টা করবো একটি ই-কমার্স সাইট থেকে কিভাবে আরো বেশি পরিমাণে সেল জেনারেট করা যায়।

► ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন

ই-কমার্স ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন বা কোন কোন ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল ই-কমার্স এসইও হচ্ছে এমন কিছু বিষয় যা সার্চ ইঞ্জিনের চাহিদা অনুযায়ী ওয়েবসাইটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিশ্চিত করা। একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটকে শতভাগ সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি করে তুলতে হলে অবশ্যই টেকনিক্যাল এসইও তথা ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশনের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। যেমন:

১. ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড যত কম হয় তত ভালো। এতে করে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক পেতে সুবিধা হবে এবং ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কমে যাবে।

২. ওয়েবসাইটের জন্য আরকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে SSL Certificate নিশ্চিত করা। অন্যান্য সাইটের ক্ষেত্রে তো বটেই, বিশেষ করে ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে SSL Certificate ছাড়া র‍্যাংক পাওয়া সম্ভব নয়।

৩. যেহেতু বেশিরভাগ ভিজিটর এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আসে, সুতরাং ওয়েবসাইটকে অবশ্যই মোবাইল ফ্রেন্ডলি বা রেসপনসিভ হতে হবে। একজন ভিজিটর ডেস্কটপ থেকে যেমন আপনার ওয়েবসাইটের সকল তথ্য সহজে দেখতে পারে, একইভাবে মোবাইল থেকেও তা যেন সহজ হয়।

৪. গুগল সার্চ কনসোলে কোন এরর থাকলে তা খুঁজে বের করে দ্রুত সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি এটিও গুরুত্বের সাথে নিশ্চিত হতে হবে, যে সবগুলো পোস্ট ও পেজ গুগল ইনডেক্স করেছে কিনা। গুগল যদি আপনার ওয়েবসাইটকে ইনডেক্স না করে, তাহলে সার্চ রেজাল্টে একজন ভিজিটরের কাছে আপনার ওয়েবসাইট প্রতর্শিত হবে না।

৫. ওয়েবসাইটে কোন ইনভেলিড পেজ আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। Error 404 পেজ যদি ওয়েবসাইটে থেকে থাকে তবে তা খুঁজে বের করতে হবে এবং পেজটিকে অন্য পেজের সাথে লিংক করে দিতে হবে বা ডিলিট করে দিতে হবে।

৬. Robots.txt ফাইল আপলোড করতে হবে। মূলত এই ফাইলের মাধ্যমে আপনি কোন কোন পেজকে সার্চ ইঞ্জিনকে ইনডেক্স করতে বলবেন, তা নির্দেশ করে।

৭. স্কিমা মার্কআপ ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে হবে। বেশ কিছু HTML ট্যাগ এর সমন্বয়ে স্কিমা মার্কআপ গঠিত হয়, যা দিয়ে সার্চ ইঞ্জিনকে প্রোডাক্ট ডিলেইলস, প্রোডাক্ট রেটিং ও স্টক সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করবে।

গুগল সার্চ কনসোলে প্রোডাক্ট রিপোর্টে স্কিমা মার্কআপের স্ট্যাটাস দেখে নিতে পারবেন। আপনার যখন মোটামুটি সবগুলো কিওয়ার্ড এর চেকলিস্ট হয়ে যাবে তখন সার্চ কনসোলে র‍্যাংকিং চেক করতে পারবেন।

► ইজি চেকআউট পেজ ও পেমেন্ট মেথড

একজন ক্রেতা যখন আপনার ওয়েবসাইট থেকে কিছু কিনতে চায়, তখন সে প্রোডাক্টি Add to Cart করার জন্য চেক আউট পেজে চলে যায়। আপনি যদি জটিলভাবে চেকআউট পেজটি ডিজাইন করেন, অর্থাৎ একটি প্রোডাক্ট কেনার জন্য ক্রেতাকে প্রচুর তথ্য দিতে হচ্ছে ও কয়েকটি ধাপ শেষ করতে হচ্ছে, তখন ক্রেতা আপনার চেক আউট পেজ থেকে বেরিয়ে যাবে ও প্রোডাক্ট কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

এর ফলে আপনি আপনি ক্রেতা হারালেন ও ওয়েবসাইটের ভিজিটর হারালেন। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে আপনার যততুকু তথ্য দরকার তা আপনি সংগ্রহ করতে পারেন। সেজন্য প্রথম ধাপে ইনফরমেশন ও দ্বিতীয় স্টেপে ডেলিভারি এড্রেস ও তৃতীয় স্টেপে পেমেন্ট মেথড রাখতে পারেন।

প্রথম স্টেপ শেষে যদি ক্রেতা চেক আউট পেজ থেকে বের হয়ে যায় তবুও যেন আপনি তাদের তথ্য পেতে পারবেন ও তাদের কাছে পরবর্তীতে আবার মার্কেটিং করতে পারবেন। সুতরাং চেক আউট পেজ যতটা সম্ভব সহজ এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি হতে হবে।

বেশিরভাগ মানুষ যেই পেমেন্ট মেথড পছন্দ করে, সেই পেমেন্ট মেথড অবশ্যই রাখেবন। যেমন, আমাদের বেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় পেমেন্ট মেথড হচ্ছে ক্যাশ অন ডেলিভারি ও মোবাইল ব্যাংকিং বা বিকাশ। এই দুটি পেমেন্ট মেথড অবশ্যই চেকআউট পেজে রাখবেন।

► FAQ – Frequently Asked Question পেজে যা রাখবেন

প্রথম পর্বেই আমরা FAQ পেজের গুরুত্ব সম্পর্কে জেনেছিলাম। ওয়েবসাইটে FAQ পেজ যুক্ত করে ক্রেতাদের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পণ্য ক্রয় করার আগে ক্রেতাদের মনে ওই পণ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তৈরি হয়। ফলে প্রাসঙ্গিক এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পেলে ক্রেতারা পণ্য ক্রয় করতে আগ্রহী হয় না।

FAQ – Frequently Asked Question পেজে আপনি ক্রেতাদের থেকে জিজ্ঞাসিত সম্ভাব্য সকল প্রশ্নগুলোর উত্তর আগে থেকেই দিয়ে রাখতে পারেন। যেমন:

  • আপনাদের রিফান্ড পলিসি কি?
  • কোন কোন অঞ্চলে ডেলিভারি দিয়ে থাকেন?
  • অঞ্চল ভেদে ডেলিভারি চার্জ কেমন?
  • আপনাদের পেমেন্ট মেথড কি কি?
  • অর্ডার দেয়ার পর কি ক্যানসেল করা যাবে?
  • কত সময়ের মধ্যে পণ্য হাতে পাওয়া যাবে?
  • আমি অর্ডার কি করে ট্র্যাক করতে পারি?
  • প্রোডাক্টের উপকরণ গুলো কি কি?

► সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন দিন

সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রমোশন বা বিজ্ঞাপন ছাড়া ই-কমার্সের এসইও কখনোই পরিপূর্ণ হবে না। এ কথা কখনোই অস্বীকার করা যাবে না, যে ভিজিটরদের একটা বড় অংশ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ওয়েবসাইটে আসবে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে ইতোমধ্যেই আমরা পরিপূর্ণ একটি গাইডলাইন তৈরি করেছি। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? এটি কেন করতে হয় এবং কিভাবে করতে হয়। এ সবকিছু জেনে নিন এখান থেকে

আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট এমনভাবে লিখতে হবে যেন সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশি বেশি শেয়ার হয়। আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে এমন কিছু বাটন যুক্ত করতে হবে যেন ওয়েবসাইটে বেশি বেশি ভিজিটর আসে যেমন, Learn More, Shop Now ইত্যাদি।

একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, গুগল সার্চ রেজাল্টেও বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টগুলো র‍্যাংক করে। গুগলের এলগোরিদম অনুযায়ী ফেসবুক ও টুইটার পোস্ট র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে বেশি অগ্রাধিকার পায়।

বর্তমান বিশ্বে সবথেকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের তালিকায় ফেসবুকের অবস্থান সবার শীর্ষে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই এর জনপ্রিয়তা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের তুলনায় অনেক অনেক বেশী। ফেসবুকে আপনার পণ্যের প্রচারণা কীভাবে ছড়িয়ে দিতে পারে, তা জানতে এই লেখাটি পড়তে পারেন : ফেসবুক মার্কেটিং কি? কেন করবো ফেসবুক মার্কেটিং?

আবার জনপ্রিয়তা, কার্যকারীতা এবং প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর জন্য ইনস্টাগ্রামের চাহিদা এখন অনেক বেশি। আর এজন্যই অনেক ফ্রিল্যান্সার ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিংকে পুঁজি করে নিজের ক্যারিয়ার দাঁড় করানো কথা ভাবছেন। আপনি ইচ্ছে করলে ইনস্টাগ্রামের তীব্র এই জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়েও আপনার পণ্যের প্রচারণা করতে পারেন। এ জন্য দেখুন: ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং : ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এর ৮ টি পাওয়ারফুল টিপস

► ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিংক তৈরি করুন

আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে মানসম্পন্ন ব্যকলিংক তৈরি করতে হবে। ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিংক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা জানতে পড়ুন : ব্যাকলিংক (Backlink) কী? কেন? এবং কীভাবে?

ব্যাকলিংক তৈরি করলে আপনি সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত র‍্যাংক পাবেন ও ওয়েবসাইটে প্রচুর ভিজিটর পাবেন। ব্যাকলিংক তৈরির জন্য সেই সব ওয়েবসাইট খুঁজুন, যে ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথোরিটি বেশি। সেজন্য MOZ এর সাহায্যে চেক করতে পারবেন ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথোরিটি।

দীর্ঘ ৩ টি আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে একটি ই-কমার্সের ডিজাইন, এসইও এবং অন্যান্য কার্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে পরিপূর্ণ এসইও করতে হলে অবশ্যই একজন এসইও এক্সপার্টের শরণাপন্ন হতে হবে। বলে রাখা ভালো এসইও করার কোন শর্টকাট নেই, এসইও করতে হলে অন্তত কয়েকমাস সময় লাগবে।


►► ই-কমার্সের সবগুলো পর্ব দেখুন এখানে: প্রথম পর্ব, দ্বিতীয় পর্ব এবং তৃতীয় পর্ব


প্রিয় পাঠক, কোর্সটিকায় আপনি কোন বিষয়ে লেখা চান, তা জানিয়ে নিচে কমেন্ট করুন। ওয়েব ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট এবং ফ্রিল্যান্সিং শিখতে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন।

Print Friendly, PDF & Email

২ Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll Up