ওয়েবসাইট গুগলে র‍্যাঙ্ক করার ১০ নিনজা টেকনিক

CSS এ গুরু হওয়ার ৭ টি পাওয়ারফুল টিপস

কোর্সটিকা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। ওয়েবসাইট এসইও সিরিজের গত পর্বে আমরা শিখেছি ওয়েবসাইট এসইও কি এবং এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে। পাশপাশি আমরা চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের প্রেক্ষপটে একজন ওয়েব ডেভেলপারের এসইও খাতে সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে।

ওয়েবসাইট এসইও কি? এবং এর প্রয়োজনীয়তা কি? এটা সম্পর্কে নিশ্চয়ই আপনি পূর্বের পোস্টটি থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। যারা এখনো পড়তে পারেননি, তারা লিংকে থেকে লেখাটি পড়ে আসুন।

বর্তমান এই প্রতিযোগিতামূলক অনলাইন দুনিয়ায় সবাই চায় তার ওয়েবসাইটটি সার্চ ইঞ্জিনে শীর্ষে থাকুক। কিন্তু হতাশার কথা হচ্ছে খুব কম সংখ্যক মানুষই তা পেরে থাকে। আপনার ওয়েবসাইটে ভালো কনটেন্ট থাকলেই তা বেশি ট্রাফিক পাবে বা গুগলে র‍্যাঙ্ক করবে, এমনটা ভাবা ভুল। একটি ওয়েবসাইটের কনটেন্ট সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাঙ্ক করবে কি না, তা নির্ভর করে সম্পূর্ণরূপে এসইওর ওপরে। আর বেশির ভাগ ওয়েবসাইটই এই পরীক্ষাটিতে উত্তীর্ণ হতে পারেন না। ফলে প্রত্যাশিত ভিজিটর না পেয়ে ক্রমাগত হতাশায় ভোগেন।

আজ আমরা কোর্সটিকা ব্লগে সেই হতাশাকে কিছুটা দূর করার চেষ্টা করবো। আমরা আলোচনা করবো একটি ওয়েবসাইটকে এসইও করার দূর্দান্ত সব কৌশল নিয়ে। যা আপনার প্রিয় ওয়েবসইটকে গুগল র‍্যাঙ্কে শীর্ষস্থান অর্জনে সহায়তা করবে। ওয়েবসাইটকে গুগলে র‍্যাঙ্ক করাতে আজ আমরা এমন দশটি টেকনিক শেয়ার করবো, যা সত্যিকার অর্থেই আপনার ওয়েবসাইটের জন্য কার্যকরি হবে।

১. ভালো ও প্রয়োজনীয় কনটেন্ট আপলোড করা:

আপনি আপনার ওয়েবসাইটে হয়তো প্রতিদিনই কিছু না কিছু আপলোড করছেন। কিন্তু আপনকে মনে রাখতে হবে, এই কনটেন্টগুলো যেন যা তা না হয়ে যায়। অর্থাৎ ভিজিটরের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অত্যান্ত সুন্দর ও সু-শৃঙ্খল কনটেন্ট আপলোড করা উচিত। সব সময় ট্রেন্ড অনুসরণ করা উচিত এবং ভিজিটররা কোন জাতীয় কনটেন্ট চায় তার প্রতি ভালো জ্ঞান রাখা জরুরী।

প্রয়োজনীয় বিষয়টি নির্বচন করে আপার কনটেন্টগুলোকে খুব সুন্দরভাবে সাজান। যদি আপনার ওয়েবসাইটটি ব্লগ ভিত্তিক হয়ে থাকে, তাহলে আপনার লেখাগুলোকে আরো বেশি তথ্যবহুল করে তুলুন। একটা কথা মনে রাখুন, গুগল দীর্ঘ এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট পছন্দ করে। আপনার কনটেন্ট যত বেশি তথ্যবহুল থাকবে, একজন ভিচজিটরের আপনার সাইটের প্রতি তত বেশি আগ্রহ বাড়বে। ফলে খুব সম্ভাবনা বেড়ে যায়, এর পর উক্ত ভিজিটর এরপর থেকে সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ না করে সরাসরি আপনার ওয়েব এড্রেস লিখে আপনার সাইট ভিজিট করার।

২. আপনার আর্টিকেলের জন্য ভালো Title Tag বাছাই করুন:

ব্লগ জাতীয় ওয়েবসাইট এসইও করার ক্ষেত্রে আর্টিকেলের সবচেয়ে জরুরি অংশ হলো Title। আর্টিকেলের জন্য ভালো Title Tag নির্বাচন করা অন পেজ এসইও’র অন্তর্ভুক্ত। যদি আপনি আপনার আর্টিকেলের জন্য ভালো Title Tag ব্যবহার করেন, তাহলে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর প্রথমেই আপনার ওয়েবসাইটের লিংকে ক্লিক করবে। আর সার্চ ইঞ্জিন হোক বা সোশ্যাল মিডিয়া, আপনার আর্টিকেলের Title দেখেই পাঠক আকর্ষিত হবে এবং পুরো আর্টিকেল পড়বে।

সুতরাং এমন Title লিখুন যেটা খুব সহজে বুঝা যায় বা যেটা পরেই পুরো আর্টিকেলের বিষয়টি বুঝা যায়। তাহলে Google Search Result থেকে হোক বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে, আপনার ব্লগের সেই লিংকে সবাই ক্লিক করবে। আর একটা কথা মনে রাখুন, যদি Google Search Result এ বেশিভাগ লোক আপনার ব্লগের লিংকে ক্লিক করে, তাহলে আপনার ব্লগের CTR – Click Through Rate ভালো হয়। যা ওয়েবসাইটকে গুগলে জনপ্রিয় করতে আরো সাহায্য করে।

গুগল সার্চ থেকে আপনার ব্লগে বেশি ক্লিক হওয়া বা CTR ভালো হওয়া মানে আপনার ব্লগের প্রতি গুগলের নজরে ভালো হওয়া। কারণ, আপনার আর্টিকেল লিংকে বেশিভাগ ক্লিক হওয়া মানে ভিসিটর রা আপনার আর্টিকেলে তথ্য পরে ভালো পেয়েছেন এবং এতে গুগল আর্টিকেলগুলোই আগে দেখাবে।

৩. ট্যাগ ব্যবহারে আরো যত্নবান হবেন:

কনটেন্ট আপলোডের পূর্বে অবশ্যই আপনার কনটেন্ট রিলেটেড কিছু ট্যাগ যুক্ত করুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অনেকে ট্যাগ অপশনটি খালি রাখেন। এটা চূড়ান্ত একটি ভুল কাজ। গুগল আপনার কনটেন্টগুলো ট্যাগ দেখেই খুঁজে বের করবে। আর আপনি যদি কোন ট্যাগই ব্যবহার না করেন, সেক্ষেত্র গুগল সার্চের প্রথম পেজে কখনোই স্থান দখল করতে পারবেন না।

তাই চেষ্টা করুন, আপনি যে বিষয়ের ওপর কনটেন্ট লিখেছে, তার সাথে সম্পর্কযু্ক্ত ট্যাগ যোগ করে দিতে। অর্খাৎ, সার্চ ইঞ্জিনে কি কি লিখলে আপনার কনটেন্টগুলো চলে আসবে, চেষ্টা করুন সেই জাতীয় ট্যাগ তৈরি করতে।

৪. আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড দ্রুত করুন:

ওয়েবসাইট এসইও করার ক্ষেত্রে যেকোন ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি এমন কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন, যার পেজগুলো লোডিং হতে অনেক বেশি সময় নেয়, তাহলে নিশ্চয়ই আপনি ওই ওয়েবসাইটকে পছন্দ করবেন না।

ঠিক একই ভাবে কোন ভিজিটর তথ্য সংগ্রহের জন্য আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে লোডিং স্পীড যদি কম পায়, তাহলে সে বিরক্ত হয়ে অন্য ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবে। তাই চেষ্টা করুন সবোচ্চ ৫ সেকেন্ডের মধ্যে আপনার ওয়েবসাইটকে লোড করার। এর ফলে আপনার কোন ভিজিটর যিনি আপনার ব্লগে আর্টিকেল পড়তে এসেছেন, তা খুব তাড়াতাড়ি দেখতে বা পড়তে পারেন।

পক্ষান্তরে, পেজ ধীর গতিতে লোড হওয়ার দরুণ ভিজিটর যদি আপনার সাইট থেকে চলে যায়, তাহলে তা Google Search বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনের কাছে আপনার ব্লগের খারাপ ইমেজ তৈরী হয়। আর, ধীর গতির ওয়েবসাইট হওয়ার জন্য সার্চ ইঞ্জিন আপনার ওয়েবসাইট প্রথম স্থানে না রেখে তাকে পিছাতে থাকে এবং ওই সকল ওয়েবসাইটকে সামনে নিয়ে আসে যাদের লোডিং স্পীড তুলনামূলক দ্রুত।

৫. ব্লগ পোস্টের লিংক কাস্টমাইজ করুন:

আপনার ওয়েবসাইট নতুন কোন বিষয় নিয়ে আর্টিকেল লেখার শুরুতে আগে ভেবে নিন লিংক কেমন হবে। অনেকেই লিংকের এই বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। ফলে কাঙ্খিত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হয়। আপনার ব্লগ পোস্টের লিংক কেমন হবে, তা আপনি খুব সহজেই নির্বাচন করতে পারেন। আপনি ব্লগস্পট ব্যবহার করেন অথবা ওয়ার্ডপ্রেস, আপনি এই দুটি প্লাটফর্ম থেকেই আর্টিকেলের URL address সেট করে নিতে পারবেন।

ব্লগ আর্টিকেলের URL address এ সবসময় রিলেটেড keyword ব্যবহার করুন। এছাড়া সব সময় চেষ্টা করুর URL address টিকে ছোট রাখার। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, আপনার লেখা আর্টিকেল যদি এমন হয় যে, “SEO কি এবং ব্লগে এর ব্যবহার কিভাবে করবো করবো” তাহলে আপনি আর্টিকেলের URL address সেট করুন এভাবে: “Seo-মানে-কি” অথবা “এস-ই-ও-কি-এবং-এর ব্যবহার”।

এভাবে ছোট ও পরিষ্কার URL address এবং তাতে keyword ব্যবহার করলে Google সহজে বুঝতে পারে যে আপনি কিসের ওপরে আর্টিকেল লিখেছেন। এতে আপনার লেখা আর্টিকেল Google সার্চে ভালো ভাবে Rank করার সুযোগ থাকে।

৬. যথেষ্ট পরিমাণে Internal linking করুন:

ইন্টারনাল লিংকিং অন পেজ এইসইও এর অন্তর্ভুক্ত। অনেকেই হয়তো Internal linking এর বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি জানেন না। Internal linking হলো আপনার ব্লগের একটি পোস্টের মধ্যে অন্য একটি পোস্টের লিংক উল্লেখ করা। যেমন আমি যদি লিখি: কিভাবে শিখবেন গ্রাফিক্স ডিজাইন, তা পড়ে আসুন এখান থেকে। তাহলে এটা একটি Internal linking।

একটি ভালো Internal linking এর concept আপনার ব্লগের আর্টিকেল Google সার্চে র‍্যাঙ্ক করতে অনেক সহায়তা করে। পাশাপাশি আপনার ওয়েবসাইটের অন্যান্য পেজগুলোর ভিজিটরের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

৭. ALT Tag এর যথাযথ ব্যবহার করুন:

রিলেটেড ট্যাগ অপশনের মতোই ALT Tag ট্যাগও অনেক ব্লগারের কাছেই অবহেলিত একটি অপশন। অথচ এই অপশনগুলো দেয়াই হয়ে থাকে আপনার কনটেন্টকে এসইও উপযোগী তৈরি করতে। আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটে কোন আর্টিকেল লেখেন, তখন নিশ্চয়ই তার সাথে বেশ কিছু ইমেজ বা ছবি ব্যবহার করেন। যখন ব্লগে ছবি আপলোড করবেন তখন “Alt tag” নামে একটি অপশন পাবেন। সেটির যথাযথ ব্যবহার করুন। Alt tag অপশনে ওই ছবিটি ব্যতিক্রম আর কি কি কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করলে পাওয়া যাবে, তা সংক্ষেপে লিখুন।

ALT Tag থাকলে Google এবং অন্য সার্চ ইঞ্জিন বুঝতে পারে যে আপনার আপলোড করা ছবিটি কিসের সাথে সম্পর্কিত। তাই ALT Tag অবশ্যই ব্যবহার করবেন এবং ALT Tag এ keyword এর ব্যবহার রাখবেন।

৮. ফ্রি অথবা প্রিমিয়াম প্লাগিন ব্যবহার করুন:

বর্তমানে অনেক প্লাগিন আছে, যেগুলো আপনার কনটেন্ট এসইও ফ্রেন্ডলি কি না তা দেখিয়ে দেবে। এ ধরনের প্লাগিনগুলো ফ্রি অথবা প্রিমিয়াম দুটি ক্যাটাগরিতেই পাওয়া যায়। এদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি প্লাগিন হচ্ছে ইয়োস্ট এসইও (Yoast Seo)।

Yoast Seo এর মাধ্যমে আপনি এসইও ফ্রেন্ডলি টাইটেল নির্বাচন করতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার কনটেন্ট শেয়ার করলে তার কি ডিসক্রিপশন (বর্ণনা) প্রদর্শন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মোটামুটি এ সুবিধাগুলো আপনি Yoast Seo এর ফ্রি ভার্সনেই পাবেন। এর থেকে বেশি ও কার্যকরী সুবিধা পেতে আপনাকে প্রিমিয়াম ভার্সনে আপগ্রেড করতে হবে।

৯. অন্যের ওয়েবাসাইটে গেস্ট হিসেবে লিখুন এবং ব্যাকলিংক নিন:

এটা এখন সর্বজন স্বীকৃত যে, ওয়েবসাইট এসইও করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে যে বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে ব্যাকলিংক। গুগল তার সার্চে টপে নিয়ে আসার জন্য ওই সকল ওয়েবসাইটকে খোঁজে, যার ব্যাকলিংক তুলনামূলক বেশি। তাই আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য প্রচুর পরিমাণে ব্যাকলিংক বিল্ড করতে হবে।

এ জন্য আপনি পরিচিত অন্য কারো ওয়েবসাইটে গেস্ট ব্লগার বা অতিথী লেখক হিসেবে লিখতে পারেন। এর ফলে আপনি সুযোগ পাবেন, আপনার ওয়েবসাইটের লিংকগুলো তাদের ওয়েবসাইটে শেয়ার করার। এভাবে আপনি যত বেশি ব্যাকলিংক বিল্ড করতে পারবেন, আপনার ওয়েবসাইটের DA অর্থাৎ Domain Authority তত বেশি বাড়িয়ে নিতে পারবেন। ফলে আপনার ব্লগ গুগল সার্চে শীর্ষ ১০ result এ দেখানোর সুযোগ থাকবে।

আপনি ইচ্ছে করলেই কোর্সটিকা ব্লগে গেস্ট ব্লগার হিসেবে লিখতে পারেন এবং আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিংক তৈরি করতে পারেন। সাফা ব্লগে লিখতে চাইলে আপনার লেখাগুলো পাঠিয়ে দিন mail@courstika.com এই ঠিকানায়।

►► আরো দেখুন : ব্যাকলিংক (Backlink) কী? কেন? এবং কীভাবে?

১০. নিজেকে আপডেট রাখা:

সবশেষে আমাদের পরামর্শ হচ্ছে নিজেকে নিয়মিত আপডেট রাখতে হবে। হতে পারে আপনি এসইও সম্পর্কে অনেক আগে থেকেই জানেন। তবে আপনি যদি সেই ২০১২ কিংবা ২০১৪ সালের এসইও পদ্ধতিগুলো জেনে বসে থাকেন এবং সেগুলোই এখনও প্রয়োগ করেন, তাহলে এখন আপনি কোনভাবেই সেই আগের পদ্ধতিগুলো দিয়ে ওয়েবসাইট র‍্যাঙ্ক করাতে পারবেন না।

সার্চ ইঞ্জিনের অপটিমাইজেশন পদ্ধতি প্রতিনিয়তই আপডেট হচ্ছে। আর তার সাথে সাথে ক্রমাগত বদলে যাচ্ছে এসইও করার পূর্বের টেকনিকগুলো। তাই ভালো ফলাফল পেতে বর্তমান সময় ও প্রযুক্তির সাথে নিজেকে আপডেট করে নিতে হবে। বর্তমান সময়ে পুরোনো ধ্যান-ধারণা কখনোই আপনাকে একটি ওয়েবসাইট র‍্যাঙ্ক করাতে সফল করবে না।


প্রিয় পাঠক, কোর্সটিকায় আপনি কোন বিষয়ে লেখা চান, তা জানিয়ে নিচে কমেন্ট করুন। ওয়েব ডিজাইন, ডেভেলপমেন্টে এবং ফ্রিল্যান্সিং শিখতে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন।

Print Friendly, PDF & Email

১৫ Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll Up