গর্ভবতী হওয়ার আগে করণীয় ও সাবধানতা

গর্ভবতী হওয়ার প্রথম মাসের লক্ষণ জেনে নিন

গর্ভাবস্থায় একজন মহিলা নারী অনেকগুলো শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তন অনুভব করেন। গর্ভবতী হওয়ার প্রথম মাসের লক্ষণ অনুযায়ী এই দীর্ঘ কঠিন সময়কালে নারীরা গর্ভধারণের বিভিন্ন চিহ্ন বহন করেন। যা দ্বারা তিনি যে গর্ভবতী তা নির্ধারণ করা যায়। তবে গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ কি? এটি সম্পর্কে আমরা কতটাই বা জানি?
গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা না থাকলে পরবর্তীতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। রিমেডিস্টে আজ আমরা আপনাকে গর্ভবতী হওয়ার প্রথম মাসের লক্ষণ বর্ণনা করবো। পাশাপাশি গর্ভধারণের ১০টি প্রাথমিক লক্ষণ উল্লেখ করবো, যা দেখে আপনি ঘরে বসেই আপনার গর্ভাবস্থা নির্ণয় করতে পারবেন। তাহলে চলুন, শুরু করি।

গর্ভবতী হওয়ার প্রথম মাসের লক্ষণ কি?

১. ক্র্যাম্পিং

গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের পেট ক্র্যাম্পিং বা আঁটসাঁট হওয়া প্রাথমিক লক্ষণ। এসময় হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এর সাথে কিছুটা রক্তক্ষরণও হতে পারে। এটি মূলত আপনাকে আপনার গর্ভধারণের কথা জানান দেয়। আপনি যদি এই লক্ষণগুলি দেখেন তবে ভয় পাবেন না। কেবল ভয় বা উদ্বেগ ছাড়াই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

২. ক্লান্তি ও অবসাদ

গর্ভাবস্থায় যে কোনও সময় শারীরিক ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি বেশি দেখা যায়। যেহেতু শরীরে হরমোন প্রজেস্টেরনের মাত্রা অনেক বেশি তাই ক্লান্তি বা অবসাদ বেশি দেখা যায়। পর্যাপ্ত ঘুম এবং ডায়েট দিয়ে এ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

৩. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া

গর্ভাবস্থায় হৃদপিণ্ড পূর্বের থেকে শরীরে বেশি রক্ত পাম্প করে। এটি কিডনি আরও তরল ফিল্টার করে এবং অতিরিক্ত তরল ব্লাডারে জমা হয়। তাই ঘন ঘন প্রস্রাব এবং অস্বস্তি হতে পারে। যদিও হরমোনের প্রভাবে এর মাত্রা বাড়ে-কমে। তাই বিশেষজ্ঞরা এসময় প্রতিদিন অন্তত অতিরিক্ত ৩০০ মিলি পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৪. পেট ফাঁপা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য

গর্ভবতী হওয়ার প্রথম মাসে পেট ফোলা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মত কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হজম পদ্ধতির কার্যক্ষমতা কিছুটা শিথিল হয়ে যায়। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ফোলাভাব তৈরি হয়। এসকল সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, আঁশযুক্ত শাকসবজি এবং ফল খেতে পারেন।

৫. শরীরের তাপমাত্রা বাড়া

শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা গর্ভাবতী হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ। আবহাওয়ার কারণে এই তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। এই সময়ে আপনার বেশি করে পানি পান করা উচিত এবং সাবধানতার সাথে শারীরিক কাজ করা উচিত।

৬. সকালে অসুস্থতা এবং বমি বমি ভাব

বমি বমি ভাব, সকাল অসুস্থতা সাধারণত গর্ভাবস্থার ৪-৫ সপ্তাহের মধ্যে শুরু হয়। যদিও এটিকে মর্নিং সিকনেস বলা হয়, এই দুর্বলতা বা অসুস্থতা দিন বা রাতের যে কোনও সময় হতে পারে। এর পেছনে হরমোন প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। তবে আসল কারণ এখনও অজানা।
অনেক মহিলারা গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে সকালে অসুস্থতা অনুভব করেন। ধীরে ধীরে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এটি তীব্র হয়ে উঠতে পারে। অনেকের সময়ের সাথে সাথে তীব্রতা কমে যায়।

৭. স্তনে ব্যথা অনুভূতি

গর্ভবতী হওয়ার প্রথম মাসে স্তনে হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এটি হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে ঘটে। অনেক সময় এই ব্যথা বা অস্বস্তিকর অনুভূতি প্রায় পরবর্তী ১১ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। তাই অতিরিক্ত ব্যাথা এড়াতে আরামদায়ক মার্টিনি ব্রা এবার ব্যবহার করা উচিত।

৮. রক্তচাপ এবং মাথা ঘোরা

গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে রক্তচাপ এবং মাথা ঘোরা অন্যতম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে রক্তচাপ কমে যায়। এর ফলে গর্ভবতী নারীদের মাথা ঘোরে। যা শরীরকে খুব দুর্বল করে দেয়।
আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে তবে আপনার নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, এ দুর্বলতা বেশিদিন চলতে থাকলে খাওয়ার প্রতি আপনার অরুচি জন্মাবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ সময় আপনার আরো বেশি বেশি করে খাওয়া উচিত।

৯. খাবারে অনীহা এবং গন্ধ পাওয়া

অনেক গর্ভবতী মহিলা বলে থাকেন যে গর্ভাবস্থার শুরুতে তারা খাবারের গন্ধ পান। তবে গবেষণায় এই অভিযোগের খুব বেশি ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এই অনুভূতি আপনাকে খাদ্যের প্রতি অনীহার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

১০. দ্রুত হৃদস্পন্দন

গর্ভধারণের সাধারণত ৮-১০ সপ্তাহে আপনার হৃদপিণ্ড দ্রুত প্রসারণ শুরু করে। এটি গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের লক্ষণ। এসময় বুক ধড়ফড় করতে পারে এবং তীব্র অসস্তিবোধ হতে পারে। হরমোনগত পার্থক্যের কারণে এটি ঘটে।

গর্ভধারণের আরও কিছু প্রাথমিক লক্ষণ

গর্ভধারণ করলে নারীদের মেজাজে বেশকিছু পরিবর্তন ঘটে। খুব অল্পতেই বিরক্ত হওয়া বা মেজাজ খিটখিটে হওয়া গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ। এমনটি দেখা যায় যে কখনও কখনও তারা ভাল মেজাজে আছে আবার হঠাৎ করেই উচ্চ মেজাজে চলে যায়। এটি হরমোনেরও কাজ।
মেজাজের এই পরিবর্তনকে মুড সুইং বলে। স্বামী বা পরিবারের পর্যাপ্ত সহযোগিতা নিয়ে এই সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। গর্ভাবস্থার এই জটিল সময়কালে শরীরে ঘন ঘন ব্যথা এবং অতিরিক্ত ঘুমও হতে পারে।


►► আরো দেখো: জন্মের প্রথম ঘণ্টা থেকেই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো
►► আরো দেখো: প্রসূতি মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধির উপায় (৭ টি খাবারের তালিকা)


শেষ কথা

আপনি যখন অবশেষে বুঝতে পারবেন যে আপনি মা হতে চলেছেন, এটি অবশ্যই আপনার জন্য সুসংবাদ। গর্ভাবস্থা একটি দীর্ঘ এবং কঠিন ভ্রমণ। এই সময়টি খুব সাবধানে এবং উদ্বেগ ছাড়াই অতিবাহিত করতে হবে।
পরিবারের প্রত্যেকের সহযোগিতা একজন ভবিষ্যত মাকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টি কাটাতে সহায়তা করতে পারে। তাই নিরাপদ ও সুস্থ থাকার জন্য নিজের যত্ন নিন।

Photo by mikoto.raw from Pexels

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *