প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২২ পরীক্ষা (সব তথ্য একসাথে)

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২২ পরীক্ষা খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে। তাই আপনি যদি শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠেন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলছে। প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হতে হলে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২২ পরীক্ষার যোগ্যতা, পরীক্ষা পদ্ধতি, সিলেবাসসহ আরো বেশকিছু বিষয়ে আমরা এখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

নারীদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশা অত্যন্ত নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব। বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা একেবারেই কম নয়। শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬০১। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, প্রতিবছরই বৃহৎ সংখ্যার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে।

বর্তমানে অনার্স বা ডিগ্রী শেষ হলেই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকে। এর একটি বিশেষ কারণও রয়েছে। প্রতিবছর যে পরিমাণ শিক্ষক এ সেক্টরে নিয়োগ দেয়া হয়, তা সাধারণত অন্য কোন সেক্টরে হয়ে থাকে না। তাই এই নিয়োগ পরীক্ষাটিকে ঘিরে প্রার্থীদের উৎকণ্ঠা একটু অন্যরকম।

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২২ পরীক্ষার যোগ্যতা

একটা সময় না প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে নারী প্রার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে আবেদন করতে পারলেও এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে নারী ও পুরুষ উভয়কেই স্বীকৃত কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের CGPA সহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রীধারী হতে হবে।

সহজভাবে বলতে গেলে আপনি যদি অনার্স বা ডিগ্রী পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের CGPA পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে থাকেন, তবে আপনি প্রাইমারি শিক্ষক হতে আবেদন করতে পারবেন। বয়সের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ প্রার্থীদের সর্বনিম্ন ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা হবে ৩২ বছর।

পরীক্ষা পদ্ধতি

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাইমারি শিক্ষক নির্বাচন করা হয়। লিখিত পরীক্ষার বিষয়গুলো হচ্ছে বাংলা, গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান; যা বহুনির্বাচনী বা MCQ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখিত প্রতিটি বিষয় থেকে ২০ টি করে সর্বমোট ৮০ টি নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্ন থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল আপনাকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে।

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২২ পরীক্ষার সিলেবাস

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবারের নিয়োগে কত নম্বরের পরীক্ষা হবে এ বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আশা করা যায়, খুব শীঘ্রই পরীক্ষা পদ্ধতি ও পরীক্ষার তারিখ পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়ে দেবে। তবে এই সময়ের মধ্যে আপনি বিগত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন দেখে নিতে পারেন।

নিয়োগ পরীক্ষা সর্বমোট ১০০ নম্বরের ওপর হবে। যার মধ্যে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যথাক্রমে ৮০ ও ২০ নম্বর থাকবে। লিখিত ৮০ নম্বরের পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ের জন্য ২০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিতি, স্মার্টনেস, প্রশ্নের উত্তর এবং এসএসসি ও এইচএসসি ফয়ালফলের উপর আলাদাভাবে ৫ নম্বর থাকবে।

এখানে একটি বিষয়ে মনে রাখতে হবে; প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। অর্থাৎ প্রতি ৪ টি প্রশ্নের ভুল উত্তর দিলে ১ নম্বর কাটা যাবে। তবে আপনি যদি ৮০ নম্বরের মধ্যে ৭০ নম্বরের উপরে পান, তাহলে চাকরি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় আপনি অন্য সবার থেকে এগিয়ে থাকবেন। তাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বে প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে পড়তে হবে।

নিচে লিখিত পরীক্ষার ৪ টি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হল:

  • বাংলা: বাংলায় প্রস্তুতি নেয়ার জন্য NCTB প্রণীত নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের সব অধ্যায়গুলো পড়তে হবে। ব্যাকরণের মধ্যে ভাষা, বর্ণ, শব্দ, পদ, সন্ধি বিচ্ছেদ, ধাতু ও সমাস-বিভক্তি ইত্যাদি ভালো করে পড়তে হবে। পাশাপাশি বানান শুদ্ধি, সমার্থক শব্দ ও বিপরীত শব্দ, পারিভাষিক শব্দ, এক কথায় প্রকাশ এগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু ব্যকরণই নয়; সাহিত্য অংশে গদ্য বা পদ্যের বেশকিছু তথ্য আয়ত্বে আনতে হবে। যেমন বাংলা সাহিত্যিকদের জীবনী ও কর্ম, বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থের নাম এবং কবিদের জন্ম-মৃত্যু তারিখ মনে রাখতে হবে।
  • ইংরেজি: ইংরেজিতেও Grammar অংশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই বা বাজারে প্রচলিত যেকোন ভালো Grammar বই থেকে অধ্যায়গুলো আয়ত্বে আনুন। অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু টপিকের মধ্যে রয়েছে Article, Preposition, Parts of Speech, Verb, Tense, Narration এবং Right form of verbs। এছাড়াও Voice, Spelling, Sentence Correction, Translation, Synonym-Antonym এবং Phrase and Idioms টপিকগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে।
  • গণিত: গণিত অনেকের কাছে সহজ, আবার অনেকের কাছে ভয়ের নাম। তবে সহজে অংকের সমাধান বের করার শর্টকার্ট নিয়ম জানলে এই ভয়টা আর থাকে না। পাটিগণিতের সংখ্যা, ঐকিক নিয়ম, লাভ-ক্ষতি, মুনাফা ইত্যাদি সমাধান করতে শিখুন। অপরদিকে বীজগণিতের বর্গ, ঘন, যোগ-বিয়োগ, গুণ-ভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ সূত্রসমূহ মুখস্থ করুন। জ্যামিতি থেকে ত্রিভুজ, রম্বস, আয়াত, বর্গ, চতুর্ভুজ ও বৃত্ত পড়তে ভুলবেন না যেন।
  • সাধারণ জ্ঞান: সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ বিষয়াবলী থেকে বেশি প্রশ্ন আসে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ভূগোল, আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কে শিখুন। বিশেষ করে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক দিন ও সাম্প্রতিক সময়ের ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী নিয়েও পড়তে হবে। অপরদিকে আন্তর্জাতিক অংশে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও রাজধানী, দিবস, ঘটনা ও খেলাধুলা থেকে প্রশ্ন আসে। এছাড়াও তথ্য ও প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান বিষয়ক কিছু প্রশ্নও দেয়া হয়।

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার গাইড pdf ডাউনলোড

এ পরীক্ষায় বিস্তর প্রস্তুতি নেয়ার জন্য গাজী মিজানুর রহমানের প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ এনালাইসিস বইটি বেশ কার্যকরী। চমৎকার এ বইটিতে কীভাবে খুবই অল্প সময়ে প্রস্তুতি শেষ করবেন, সে উপায় দেয়া আছে। বইটি থেকে 6 Star, 5 Star ও 4 Star দেয়া টপিকগুলো কমপক্ষে ৩ বার ভালো করে শেষ করুন। কারণ, এই টপিকগুলো থেকে পরীক্ষায় অধিকাংশ প্রশ্নই কমন আসবে।

পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম সাজেশনভিত্তিক এ প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ গাইডে বিগত সকল শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলোর Analysis রয়েছে। তাই কোন টপিক বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কোন টপিক কম গুরুত্বপূর্ণ তা ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হবে এ বইটির মাধ্যমে। উপরে দেয়া লিংকে ক্লিক করে দুর্দান্ত এ বইটি ডাউনলোড করে নিন।

কিছু শটকার্ট টেকনিক:

  • কি কি বাদ দিতে হবে তা খুঁজে বের করুন
  • ইংরেজীতে ও গণিতে দক্ষতা বৃদ্ধি করুন।
  • বেশি বেশি ইংরেজী ভোকাবুলারি আয়ত্বে আনুন।
  • প্রতিদিন নতুন কি শিখছেন তা নোট করে রাখুন।
  • ছন্দ মুখস্থ করে পড়া আয়ত্বে আনার প্রবণতা পরিহার করুন।

শেষ কথা

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২২ এ উত্তীপর্ণ হতে হলে আপনাকে যে প্রচুর পড়তে হবে, তার বিকল্প নেই। তবে এত পড়া দেখে ভীত বা শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন; যা শিখছেন, যতটুকু শিখছেন তা স্পষ্ট করে শিখুন। কোন দ্বিধা না রেখে প্রয়োজনবোধে গুগলে বেশি বেশি সার্চ দিন।

পড়ার সময় ব্যাখ্যা না পড়ে শুধু প্রশ্নগুলোই পড়ুন। কারণ, ব্যাখ্যা পড়ে জ্ঞানী হওয়ার জন্য আপনি বইগুলো পড়ছেন না, পড়ছেন একটি চাকরি পাবার জন্য। তাই চাকরির জন্য যতটুকু জ্ঞানী হওয়ার দরকার ততটুকু হলেই যথেষ্ট। সবশেষে বন্ধুদের সাথে গ্রুপ স্টাডি করুন। নিজেকে যাচাই করতে বেশি বেশি পরীক্ষা দিন এবং প্রশ্ন সলভ করুন। এতে করে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আরো বৃদ্ধি পাবে।

Photo by Pixabay on Pexels

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *