বিসিএস ফরম পূরণের নিয়ম (প্রতিটি ধাপ বর্ণনা)

আপনি কি এ বছর বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন? বিসিএস ফরম পূরণের নিয়ম জানা থাকলে আপনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শুরু করতে পারবেন। বাংলাদেশের লাখো তরুণদের কাছে বিসিএস সর্বাধিক পছন্দের একটি ক্যারিয়ার। গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষাটিতে তাই শুরু থেকেই যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয়।

অনেকেই পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় এবং বিসিএস ফরম পূরণের নিয়ম না জানায় বেশ কিছু মারাত্মক ভুল করেন। ফরম পূরণের সময় ছোট-খাট কিছু ভুলও অনেক বড় সমস্যা বয়ে নিয়ে আসতে পারে। তাই এই বিষয়টি অত্যন্ত মনযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

বিসিএস ফরম পূরণের নিয়ম

বিসিএস ফরম পূরণ করতে হয় টেলিটকের ওয়েবসাইট থেকে। তাই আবেদনসংক্রান্ত এই ওয়েবসাইটে গিয়ে Online Application Process for 43rd BCS Examination লেখায় ক্লিক করুন। আপনি বিভিন্ন ক্যাটাগরি যেমন জেনারেল ক্যাডার, টেকনিক্যাল বা প্রফেশনাল ক্যাডার এবং বোথ ক্যাডারের তিনটি অপশন দেখতে পাবেন।

আপনি আপনার যোগ্যতা ও পছন্দ অনুসারে যেকোনো একটি সিলেক্ট করে Apply বাটনে ক্লিক করুন। এরপরই বিপিএসসি-১ ফরম ওপেন হবে, যা তিনটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে ব্যক্তিগত তথ্য, দ্বিতীয় অংশে শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কিত তথ্য এবং তৃতীয় অংশে ক্যাডার চয়েস–সংবলিত তথ্য পূরণ করতে বলা হবে। নিচে বিসিএস ফরম পূরণের নিয়ম গুলো ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো।

প্রথম অংশ পূরণ

প্রথম অংশে আপনার বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্যের প্রয়োজন পরবে। আপনার নিজের নাম, পিতার নাম এবং মাতার নাম মাধ্যমিক (এসএসসি) সার্টিফিকেটে যেভাবে দেয়া আছে, ঠিক সেভাবেই ক্যাপিটাল লেটারে (বড় হাতের অক্ষরে) লিখতে হবে। জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে এসএসসি সার্টিফিকেটে যেটা উল্লেখ আছে, সেটাই লিখুন। জন্মতারিখ লিখতে ভুল করলে আপনার প্রার্থিতা বাতিল হবে।

প্রথম অংশে অন্যান্য তথ্যগুলো:

  • লিঙ্গ: আপনি পুরুষ হলে Male, নারী হলে Female, এবং তৃতীয় লিঙ্গের হলে Third Gender অপশনটি সিলেক্ট করুন।
  • চাকরির তথ্য: আপনি বেকার হলে Not Employed, রাজস্ব খাতের সরকারি চাকরি হলে Regular Basis under Revenue Budget, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে হলে Autonomous or Semi-autonomous Organization, বেসরকারি হলে Private Organization সিলেক্ট করুন।
  • উপজাতীয় বা সংখ্যালঘু: আপনি কি উপজাতি? তাহলে হলে Yes অপশন সিলেক্ট করুন। অন্যথায় No সিলেক্ট করুন।
  • মুক্তিযোদ্ধার সন্তান: মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হলে Child of Freedom Fighter, নাতি বা নাতনি হলে Grand Child of Freedom Fighter, মুক্তিযোদ্ধা কোটা না থাকলে Non Freedom Fighter সিলেক্ট করুন।
  • বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত হলে Married অপশন সিলেক্ট করুন। নির্দিষ্ট স্থানে স্বামী বা স্ত্রীর নাম লিখুন। বিবাহিত না হলে Single অপশন সিলেক্ট করুন।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলে Yes অপশন সিলেক্ট করে পরিচয়পত্র নম্বর দিন। না থাকলে No অপশন সিলেক্ট করুন।
  • প্রতিবন্ধী: প্রতিবন্ধী হলে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা সিলেক্ট করুন। না হলে None বাটন চাপুন।
  • উচ্চতা: আপনার উচ্চতা অবশ্যই সেন্টিমিটার এককে লিখবেন। এক্ষেত্রে উচ্চতা সেন্টিমিটারে জানা না থাকলে ইঞ্চিতে জানা উচ্চতাকে ২.৫৪ দ্বারা গুণ করলে সেন্টিমিটারের হিসেব পাওয়া যাবে।
  • ওজন: যেকোনো ওজন মেশিনে ওজন মেপে ওজন কিলোগ্রামে (Kg) লিখুন।
  • বুকের মাপ: সাধারণ অবস্থায় বুকের মাপ সেন্টিমিটার (cm) এককে লিখুন।
  • বর্তমান ঠিকানা: আপনি বর্তমানে যে ঠিকানায় অবস্থান করছেন এবং চিঠিপত্র পেতে চান, সেই ঠিকানার গ্রাম, জেলা, উপজেলা, ডাকঘর ও ডাকঘরের কোড ক্যাপিটাল লেটারে লিখুন।
  • স্থায়ী ঠিকানা: স্থায়ী ঠিকানার গ্রাম, জেলা, উপজেলা, ডাকঘর ও ডাকঘরের কোড ক্যাপিটাল লেটারে লিখুন। যেহেতু বর্তমান ও স্থায়ী উভয় ঠিকানায়ই ভেরিফিকেশন হয়, তাই বর্তমান ঠিকানা আর স্থায়ী ঠিকানা এক দেয়াই ভালো।
  • যোগাযোগের নম্বর: পরীক্ষাসংক্রান্ত এসএমএস যে মোবাইল নম্বরে পেতে চান, সেই নম্বরটি লিখুন। কোনো সমস্যা হলে কর্তৃপক্ষ যাতে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, সে জন্য নিজের নম্বর ব্যবহার করাই ভালো।
  • পরীক্ষাকেন্দ্র: আপনি কোন কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে চান তা সিলেক্ট করুন। এখানে যে কেন্দ্র দেবেন, সেই কেন্দ্রেই প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ থাকবে না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: চাকরিতে আছেন উল্লেখ করলে পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে Non Objection Certificate (NOC) নিয়ে তা পিএসসিতে জমা দিতে হবে। অন্যথায় জমা দেওয়া লাগবে না।

এই তথ্যগুলো পূরণ হয়ে গেলে আবার ভালো করে পর্যবেক্ষণ করুন। সবকিছু ঠিক থাকলে ওপরের সব তথ্য সঠিক দিয়েছেন মর্মে প্রত্যয়ন দিয়ে Next বাটন চাপুন।

দ্বিতীয় অংশ পূরণ

দ্বিতীয় অংশে আসলে শিক্ষাগত যোগ্যতা–সংবলিত একটি পেজ ওপেন হবে। এখানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, বোর্ড, রোল, রেজাল্ট, গ্রুপ ও পাসের সাল লিখুন। একইভাবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্টিফিকেট অনুসারে তথ্যগুলো পূরণ করুন।

দ্বিতীয় অংশে অন্যান্য তথ্যগুলো:

  • স্নাতক (অনার্স বা ডিগ্রী): অনার্সের সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, বিষয়, রেজাল্ট, পাসের সাল এবং কত বছর মেয়াদি কোর্স, সেটা লিখুন। যে সকল শিক্ষার্থীরা অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে আবেদন করছেন, তারা পরীক্ষা শুরু ও শেষের তারিখ লিখুন।
  • স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স): আপনি যদি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে থাকেন, তবে এই অপশনটি সিলেক্ট করুন। এরপরে সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, বিষয়, রেজাল্ট, পাসের সাল এবং কত বছর মেয়াদি কোর্স, সেটা লিখুন।
  • Additional Qualification for Teachers Training College: প্রযোজ্য হলে টিক চিহ্ন দিন। এরপর সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম, রেজাল্ট ও পাসের সাল লিখুন।
  • Post Related Subjects: শুধু টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ও বোথ ক্যাডারদের জন্য এ অপশন প্রযোজ্য, জেনারেলদের জন্য নয়। আপনার সাবজেক্ট সিলেক্ট করুন। ওপরের সব তথ্য সঠিক দিয়েছেন মর্মে প্রত্যয়ন দিয়ে Next বাটন চাপুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ক্ষেত্রে বিষয়ের ঘরে যদি কেউ Others পূরণ করেন, তাহলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে (ক্যাডার) লিখিতভাবে জানাতে হবে।

তৃতীয় অংশ পূরণ

প্রথম ও দ্বিতীয় অংশ পূরণ হয়ে গেলে আপনার সামনে তৃতীয় অংশ অর্থাৎ Cadre Option সংবলিত একটি পেজ ওপেন হবে। এখানে আপনি বিভিন্ন ক্যাডার অপশ দেখতে পাবেন। আপনি আপনার যোগ‌্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী ক্যাডার নির্বাচন করবেন।


আপনি কি বিসিএস দিতে চাচ্ছেন?
আগে জেনে নিন: বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা।


শেষ কথা

দীর্ঘ এই আর্টিকেলে আপনি বিসিএস ফরম পূরণের নিয়ম সম্পর্কে জানলেন। অন্যান্য পরীক্ষার ফরম পূরণ অপেক্ষাকৃত সহজ হলেও বিসিএসের ফরমে তুলনামূলক বেশী তথ্য সরবারহ করতে হয়। এতে করে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা অনেক প্রার্থীই দ্বিধায় ভোগে এবং অসর্তকতা বশত ভুলও করে। তাই বিসিএস ফরম পূরণে আপনাকে যথেষ্ট সতর্ক হতে হবে। কারণ এখানে এমন কিছু সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে যা একবার সাবমিট দিলে পরবর্তীতে আপনি তা পরিবর্তন করতে পারবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *