হোয়াটসঅ্যাপের কোনো প্রিমিয়াম সেবা নেই, কিভাবে তারা উপার্জন করে

হোয়াটস এ্যাপ ও ইনস্ট্রাগ্রাম ফেসবুকের দুইটি প্রোডাক্ট বা পণ্য। আমরা কোন মূল্য পরিশোধ করা ছাড়াই এই মাধ্যমগুলো অনায়াসে ব্যবহার করতে পারি। শুধু হোয়াটস এ্যাপ নয়, গুগলেরও বিভিন্ন প্রোডাক্ট বা পণ্য যেমন: জিমেইল, ইউটিউব, গুগল ড্রাইভ, গুগল কীপ ও গুগল ফটোস প্রভৃতি আমরা বিনামূল্যে ব্যবহার করে থাকি।

হোয়াটস এ্যাপ নিয়ে করা প্রশ্নে গুগলকে টেনে আনার প্রসঙ্গটা এই যে, ফেসবুক এবং গুগল উভয়েই আমাদের ব্যবহারের সুবিধাগুলো বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, আমরা ফেসবুক এবং গুগলকে কি এমন উপকার করেছি, যাতে করে তারা আমাদের এই সেবাগুলো একেবারেই ফ্রিতে দেয়?

একটা কথা মনে রাখা জরুরী, এ পৃথিবীতে কিছুই ফ্রী না। কোন না কোনভাবে সেবাদানকারী তার সেবার বিনিময় করেই থাকেন। ইংরেজীতে একটা প্রবাদ আছে, “If you don’t pay for the product, then you are the product.” হ্যাঁ, আপনাকে যদি প্রোডাক্টটি ব্যবহারের জন্য মূল্য পরিশোধ করতে না হয়, তাহলে জেনে রাখুন আপনি নিজেই উক্ত কোম্পানীর কাছে প্রোডাক্ট।

সুতারাং অনলাইনে আমরা যে সেবাগুলো “কথিত” বিনামূল্যে পাচ্ছি, সেটাও ফ্রী না। এর পেছনে রয়েছে আড়ি পেতে তথ্য সংগ্রহের খুবই নোংড়া একটা পলিসি। হুম আপনি ঠিকই শুনেছেন, “তথ্য সংগ্রহ”। প্রত্যক্ষভাবে আমরা গুগল-ফেসবুক থেকে বিভিন্ন প্রােডাক্ট ফ্রী ব্যবহার করলেও গুগল-ফেসবুক পরোক্ষভাবে আমাদেরকেই তাদের প্রোডাক্ট হিসেবে ব্যবহার করে।

গুগল এড (বিজ্ঞাপন) এর কথা শুনে থাকবেন নিশ্চই। এর মাধ্যমে গুগল বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেখিয়ে উপার্জন করে থাকে। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, গুগল আপনাকে কি ধরনের বিজ্ঞাপন দেখাবে, তা সে অনলাইনে আপনার গতিবিধির ওপর নজরদারীর মাধ্যমেই নির্ধারণ করে। আর এতে পরোক্ষভাবে গুগলকে সাহয্য যে করছে, সে আর কেউ না, আপনি নিজেই।

ইউটিউবে যেমন আপনি কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর ভিডিও দেখলে ইউটিউব ওই শ্রেণীর আরো অনেক ভিডিও সাজেস্ট করে, ঠিক একইভাবে আপনি গুগলে কি সার্চ করছেন সেই তথ্য সংগ্রহ করে গুগল আপনার বিচরণকৃত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আপনার পছন্দের পণ্যগুলোর বিজ্ঞাপনগুলো দেখায়।

ধরুন, আপনি গুগলে সার্চ করলেন “Formal shirt and pant for men” এটা লিখে। পরের দিন আপনি যদি যেকোন ওয়েবসাইটে ভিজিট করেন, তাহলে গুগল থেকে আপনাকে শার্ট প‌্যান্ট সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন দেখানোর সম্ভাবনা অন্তত ৮০ ভাগ।

ঠিক একইভাবে, আপনি আপনার জিমেইলে কি ধরনের ম্যাসেজ পাঠান বা গুগল ফটোস অথবা ড্রাইভে কি ধরনের ডকুমেন্ট রাখেন, তার চুলছেড়া বিশ্লেষণ করে গুগল। আর পরবর্তীতে সেই তথ্যগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে চড়া দামে। যদিও ব্যবহারকারী এ জন্য সমস্যার সম্মূখীন হবে কি হবে না, তার দিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার এরা কেউই ফ্রি না

এবার আসি হোয়াটস এ্যাপের বিষয়ে। হোয়াটস এ্যাপের পলিসিটাও গুগলের থেকে ব্যতিক্রম কিছু না। আপনি অপরজনের সাথে কি বিষয় নিয়ে কথা বলছেন সেটা খুবই সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে তারা। তারা যতই বলুক, যে তারা ব্যবহারকারীর কোন তথ্য সংগ্রহ করে না, এটা মিথ্যা এবং চূড়ান্তভাবে মিথ্যা। বিশ্বাস হচ্ছে না? হোয়াটস এ্যাপে কোন বন্ধুর সাথে একটা প্রোডাক্ট নিয়ে আলোচনা করুন। খুব শীঘ্রই আপনি ফেসবুকে উক্ত প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll Up